৩ বালতি তাজা ককটেল মিললো আ. লীগ নেতার বোনের বাড়িতে
আমার দেশ নিউজ | মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: রাসেল হোসাইন
প্রকাশের তারিখ: রবিবার, ২ নভেম্বর ২০২৫
মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার বৈখর এলাকায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে এক প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার বোনের বাড়ি থেকে তিন বালতি ভর্তি তাজা ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অংশ নেয়।
রবিবার (২ নভেম্বর) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা রিপন পাটোয়ারীর ছোট বোন সেলিনা আক্তার ও তার স্বামী দেলোয়ার বেপারীর বসতবাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে ভাড়াটিয়া আনোয়ার হোসেনের দোচালা টিনের ঘরের ভেতর কাঠের গুঁড়ির বালতিতে এসব বিস্ফোরক পাওয়া যায়।
অভিযানে যা উদ্ধার হয়
অভিযান শেষে উদ্ধার করা হয়েছে তিনটি কাঠের গুঁড়ি ভর্তি বালতিতে রাখা ৪০টি অবিস্ফোরিত তাজা ককটেল। এছাড়াও, প্রায় ১০০টি ককটেল তৈরির জর্দার খালি টিনের কৌটা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত সব বিস্ফোরক দ্রব্য এখন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে গ্রেপ্তার করা হয় চর ডুমুরিয়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মো. হাসান বেপারীকে, যিনি আওয়ামী লীগ নেতা রিপন পাটোয়ারীর ভাগ্নে জামাই হিসেবে পরিচিত।
ওসির বক্তব্য
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এম সাইফুল আলম বলেন,
মোল্লাকান্দি কেন্দ্রীক সহিংসতায় ব্যবহারের উদ্দেশ্যে এসব ককটেল তৈরি ও মজুদ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আমরা দ্রুত অভিযান পরিচালনা করি।
তিনি আরও জানান, আনোয়ার হোসেনের দোচালা ঘরের পাশে ড্রেন পরিষ্কার করার সময় শ্রমিকরা বালতিতে থাকা ককটেল দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে সেনাবাহিনীর ১৯ বীর ব্যাটালিয়ন-এর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ড্রেন ও বসতবাড়ি উভয় স্থান থেকেই বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার করা হয়।
অতিরিক্ত তথ্য
অভিযান চলাকালে পুলিশ আরও ৯৫টি জর্দা তৈরির খালি কৌটা উদ্ধার করে, যা ককটেল তৈরির সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যৌথ বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারকৃত ককটেলগুলো অতি বিপজ্জনক ও সম্পূর্ণ প্রস্তুত অবস্থায় ছিল। পরে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী টিম এসে এগুলো নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
অভিযানের খবর এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের অনেকে জানান, ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই অপরিচিত কিছু লোকজন যাতায়াত করত। তারা ধারণা করছেন, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে সহিংস কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতি হিসেবে এসব ককটেল তৈরি করা হচ্ছিল।
“আমরা বুঝতেই পারিনি বাড়িটার ভেতরে এমন ভয়ংকর জিনিস রাখা ছিল। সেনাবাহিনী সময়মতো অভিযান না চালালে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারত।” — এক স্থানীয় ব্যবসায়ী
পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ
ওসি সাইফুল আলম জানান,
আটক হাসান বেপারীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা তদন্ত করা হচ্ছে।
অভিযান শেষে উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দ্রব্য সদর থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

Post a Comment