মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান | আমার দেশ নিউজ

মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করতে হবে: তারেক রহমান

স্টাফ রিপোর্টার | আমার দেশ নিউজ | ৬ নভেম্বর ২০২৫

তারেক রহমান

৭ নভেম্বর মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়। মানুষের মধ্যে গণতন্ত্রের মুক্তির পথ উন্মুক্ত হয়েছে। এখন সময় এসেছে — চূড়ান্ত গণতন্ত্রের চর্চার জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনসহ মানুষের মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার।”

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। দেশবাসীসহ সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লব কেবল একটি ঘটনার নাম নয়, এটি ছিল আধিপত্যবাদ বিরোধী জাতীয়তাবাদী রাজনীতির নবযাত্রার সূচনা। এই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায় এবং স্বাধীনতার চেতনা নতুনভাবে উজ্জীবিত হয়।

তিনি বলেন, “১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সিপাহী ও জনতা জাতীয় স্বাধীনতা সুরক্ষা ও গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের অঙ্গীকার নিয়ে রাজপথে নেমেছিল। ৭ নভেম্বরের বিপ্লব তাই বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়। স্বাধীনতাত্তোর ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থে দেশকে আধিপত্যবাদের ছায়ায় ঠেলে দেয়। ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে গঠিত হয় একদলীয় বাকশাল, যা গণতন্ত্রকে হত্যা করে।”

তারেক রহমান বলেন, “বাকশালী সরকার চরম অগণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদী পন্থায় জনগণের ন্যায়সংগত অধিকারগুলো হরণ করেছিল। ৭৫-এর ৩ নভেম্বর মহান স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে বন্দী করে রাখে কুচক্রীমহল। কিন্তু জাতির সেই গভীর সংকটকালে ৭ নভেম্বর জনতার ঢলে রাজপথে গড়ে ওঠে এক অনন্য সংহতি। এই বিপ্লবের মধ্য দিয়েই স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান মুক্ত হন, দেশ ফিরে পায় নেতৃত্ব, আশার আলো ও গণতন্ত্রের প্রাণচাঞ্চল্য।”

তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্রপতি জিয়ার নেতৃত্বে দেশে বাকস্বাধীনতা, মত প্রকাশের অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। মানুষের মনে স্বস্তি ফিরে আসে। কিন্তু আধিপত্যবাদী শক্তির দেশীয় দোসররা রাষ্ট্রপতি জিয়াকে ১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে পৈশাচিকভাবে হত্যা করে। তবুও জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত মানুষ আজও দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আবারও চক্রান্তের পথে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকার প্রায় ১৬ বছর ধরে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে রাষ্ট্রক্ষমতা নিজেদের হাতে রেখেছে। তাদের নতজানু নীতির কারণে দেশের সার্বভৌমত্ব দিন দিন দুর্বল হয়েছে। গণতন্ত্রের পক্ষে থাকা নেতা-কর্মীদের উপর চালানো হয়েছে নির্মম নির্যাতন — গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দূর্নীতি ও অপশাসনের এক ভয়াল রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “‘গণতন্ত্রের প্রতীক’ বেগম খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে বহু বছর বন্দী করে রাখা হয়েছে। এখন সমাজে ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠাই সময়ের দাবি।”

তারেক রহমান বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা পরিকল্পিতভাবে দেশীয় কৃষ্টি, ঐতিহ্য, ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আগ্রাসন চালানোর সুযোগ দিয়েছে। তাই ৭ নভেম্বরের চেতনায় অনুপ্রাণিত হয়ে সকল জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। শক্তিশালী গণতন্ত্র বিনির্মাণ এবং জাতীয় স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এখনই সবচেয়ে জরুরি।”


✍️ লেখক: রাসেল হোসাইন
📍 সূত্র: আমার দেশ নিউজ
📅 প্রকাশের তারিখ: ৬ নভেম্বর ২০২৫

Post a Comment

Previous Post Next Post